ইয়ামাল ও এমবাপ্পেকে হারিয়ে ব্যালন ডি’অর জিতলেন কেইন

লন্ডনে সোমবার নিজের শহরেই ব্যালন ডি’অর জিতে ইংল্যান্ডের ২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছেন হ্যারি কেইন। লামিন ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে মর্যাদাপূর্ণ এই ব্যক্তিগত পুরস্কার জিতেছেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড।

নারী বিভাগে তৃতীয়বারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতেছেন স্পেনের অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস। গত মৌসুমে বার্সেলোনার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। পরে লন্ডন সিটিতে যোগ দেন এই স্প্যানিশ তারকা। তাঁর এই অর্জনে ব্যালন ডি’অরে স্পেনের আধিপত্য আরও জোরালো হয়েছে।

ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান অবশ্য শুরুতেই কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়ে। লন্ডনের তীব্র যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর অনুষ্ঠান শুরু হয়। ফলে অনেক তারকাকেই নির্ধারিত সময়ের পরে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাতে হয়েছে।

তবে শেষ পর্যন্ত রাতটি হয়ে ওঠে কেইনের জন্য স্মরণীয়। নিজের শহরে দর্শক-সমর্থকদের সামনে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা স্বীকৃতি হাতে তুলে নেন তিনি। ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি’অর জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেন কেইন।

গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল করেন ৩৩ বছর বয়সী বায়ার্ন মিউনিখের এই ফরোয়ার্ড। তাঁর গোল করার অসাধারণ দক্ষতায় জার্মান জায়ান্টদের সাফল্যের পাল্লা ভারী হয়েছে।

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের তৃতীয় স্থান অর্জনের পথেও ছয়টি গোল করেন কেইন।

ব্যালন ডি’অর হাতে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে কেইন বলেন, ‘আমি নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে ভালোবাসি। এই ট্রফি দেশের জন্য নিয়ে আসা এবং একই সঙ্গে ইংল্যান্ডের একজন খেলোয়াড়ের বিজয়ী হওয়া আমার কাছে সত্যিই বিশেষ কিছু, বিশেষ করে এখানে লন্ডনে। কী অসাধারণ এক রাত! আমি ভীষণ খুশি।’

ইংল্যান্ড ও টটেনহ্যাম হটস্পারের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা কেইনের ক্লাব ক্যারিয়ারে শিরোপার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। তাঁর অর্জনের তালিকায় রয়েছে জার্মানির ঘরোয়া প্রতিযোগিতার শিরোপা।

২০১৯ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে লিভারপুলের কাছে হেরে যায় কেইনের টটেনহ্যাম। সেই ফাইনালে খেলেছিলেন তিনি। ইংল্যান্ডের হয়েও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের দুটি ফাইনালে পরাজয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

তবে ২০২৩ সালে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়ার পর ধারাবাহিক গোল করে নিজের সামর্থ্যের নতুন পরিচয় দিয়েছেন কেইন। তাঁর মতে, জার্মান ক্লাবে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এর আগে কেইন বলেছিলেন, ‘বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি আমার ক্যারিয়ারে বড় পদক্ষেপ ছিল। কেউ কেউ এটিকে ঝুঁকি হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু আমার কাছে বিষয়টি ছিল নিজের উন্নতি করা এবং সতীর্থ, দল ও ক্লাবের সঙ্গে থেকে আমি আরও ভালো হতে পারি কি না, তা দেখা। এই পদক্ষেপ আমাকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে।’

নিজের ভূমিকা সম্পর্কে কেইন আরও বলেন, ‘বায়ার্ন ও ইংল্যান্ডের হয়ে একজন নম্বর নাইন হিসেবে আপনার কাছ থেকে গোল প্রত্যাশা করা হয়। গত বছর যতবার গোল করতে পেরেছি, তা নিয়ে আমি সত্যিই গর্বিত।’

Rent for add

সর্বশেষ নিউজ

for rent