স্পোর্টস ডেস্ক : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার, ২৩:২৮:২৯

স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের কারিগর লুইস দে লা ফুয়েন্তে জিতেছেন বর্ষসেরা কোচের ব্যালন ডি’অর পুরস্কার। দীর্ঘদিন ধরে স্পেনের বয়সভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে কাজ করে জাতীয় দলের দায়িত্বে আসা ৬৫ বছর বয়সী এই কোচের সাফল্যকে দেখা হচ্ছে তাঁর দীর্ঘ পরিশ্রম ও দল গঠনের দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে।
লন্ডনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পুরস্কার গ্রহণের পর দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘দলগত কাজ আমাদের অপ্রতিরোধ্য করে তোলে। এটি অনেক বড় সম্মান।’
সাফল্যের রহস্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এর রহস্য হলো এমন উদার মানসিকতার খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করা, যারা ব্যক্তিগত স্বার্থের আগে দলকে প্রাধান্য দেয়। আমাদের দলে অসাধারণ প্রতিভার সমাহার রয়েছে, যা বিশ্বের সেরা। কোচ হিসেবে এত প্রতিভাবান খেলোয়াড় নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। তাই এই সাফল্য তাদেরই।’
বর্তমান ফুটবলে সাবেক তারকা খেলোয়াড়দের কোচ হিসেবে আবির্ভাবের প্রবণতা বাড়লেও দে লা ফুয়েন্তের পথচলা ছিল কিছুটা ভিন্ন। খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর ক্যারিয়ার খুব বেশি উজ্জ্বল ছিল না। ক্লাব কোচিংয়েও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাননি। তবে স্পেনের জাতীয় দলের কোচিং কাঠামোর বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে ধীরে ধীরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।
২০১৩ সালে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের যুব দলের কোচ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন করেন দে লা ফুয়েন্তে। এরপর স্পেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দায়িত্ব পান তিনি। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর নতুন অধ্যায়। বয়সভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তরুণ প্রতিভাদের কাছ থেকে পেয়েছেন কাছ থেকে দেখার এবং তাদের বিকশিত করার সুযোগ। পরবর্তী সময়ে সেই খেলোয়াড়দের অনেকেই জাতীয় দলে তাঁর অধীনে খেলেছেন।
দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেনের সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, দলীয় সংহতি এবং তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতিভা বিকাশের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। নেশন্স লিগ ও ইউরো ২০২৪-এর মতো প্রতিযোগিতায় সাফল্য তাঁর কোচিং দক্ষতাকে আরও প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বিশ্বমঞ্চেও স্পেনের শক্তিশালী দল গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দে লা ফুয়েন্তে। দলের সামর্থ্য নিয়ে বরাবরই আত্মবিশ্বাসী এই কোচের মতে, স্প্যানিশ ফুটবলের উন্নত প্রশিক্ষণব্যবস্থা ও তরুণ খেলোয়াড় তৈরির প্রক্রিয়াই ভবিষ্যতের সাফল্যের ভিত্তি।
পুরস্কার জয়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘বহু বছর ধরে অত্যন্ত ভালোভাবে কাজ করার স্বীকৃতি এটি। আমার বিশ্বাস, কোচিং ও খেলার ধরন—উভয় ক্ষেত্রেই স্প্যানিশ ফুটবল উন্নত মানের তরুণ খেলোয়াড় তৈরির একটি দৃষ্টান্ত। আর এই প্রক্রিয়াই শেষ পর্যন্ত ভবিষ্যতের সাফল্যের পথ তৈরি করে।’
এদিকে নারী ফুটবলে বর্ষসেরা কোচের পুরস্কার জিতেছেন বার্সেলোনার কোচ পেরে রোমিউ। তাঁর অধীনে গত মৌসুমে স্প্যানিশ লিগ, স্প্যানিশ কাপ, স্প্যানিশ সুপার কাপ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ—চারটি শিরোপাই জিতেছে বার্সেলোনা।
Rent for add