স্পোর্টস ডেস্ক : ২১ অক্টোবর ২০২৬, বুধবার, ২৩:৫০:৪২

ভিটিনহার গোলে সমতা ভাঙার পর রুইজের আঘাত, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফরাসি জায়ান্টদের টানা তৃতীয় জয়
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে বার্সেলোনাকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)। মঙ্গলবার প্যারিসের পার্ক দে প্রিন্সেসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দুই দলের লড়াই জমে উঠেছিল শেষ পর্যন্ত। একপর্যায়ে ২-২ সমতায় থাকা ম্যাচে ৮১ মিনিটে দুর্দান্ত গোলে পিএসজিকে এগিয়ে দেন পর্তুগিজ মিডফিল্ডার ভিটিনহা। পরে ফাবিয়ান রুইজের গোলে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
চলতি মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তিন ম্যাচের সবকটিতেই জিতেছে পিএসজি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি তাদের টানা সপ্তম জয়। টানা তৃতীয় মৌসুমে ইউরোপের মর্যাদাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে লুইস এনরিকের দল।
প্যারিসের মাঠে দুই দলের লড়াইয়ে শেষদিকে নাটকীয়তা আরও বাড়ে। ২-২ সমতায় থাকা ম্যাচে ৮১ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে গোল করেন ভিটিনহা। গত বছরের ব্যালন ডি’অর ভোটে তৃতীয় হওয়া এই মিডফিল্ডারের গোলে এগিয়ে যায় পিএসজি।
এরপর ফাবিয়ান রুইজের গোলে ব্যবধান বাড়িয়ে জয় নিশ্চিত করে ফরাসি ক্লাবটি। ম্যাচের শেষদিকে কার্যকর আক্রমণে বার্সেলোনার রক্ষণ ভেঙে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নেয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
অন্যদিকে একপর্যায়ে অন্তত এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ার আশা জাগিয়েছিল বার্সেলোনা। দলের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল দ্বিতীয়বারের মতো সমতা ফেরালেও শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারেনি কাতালানরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে দুই দল। গত সপ্তাহে ম্যানচেস্টার সিটিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে আসা পিএসজি ম্যাচের ৯০ সেকেন্ডের মধ্যেই গোল পেতে পারত। তবে খভিচা কাভারাসখেলিয়ার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
২০ মিনিটের মাথায় হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে মাঠ ছাড়তে হয় ওসমান দেম্বেলেকে। তাঁর পরিবর্তে মাঠে নামেন ফেরান তোরেস। পরে চোটের কারণে বার্সেলোনাও হারায় দানি ওলমোকে।
৩৮ মিনিটে লামিন ইয়ামালের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায় পিএসজি। নিজেদের অর্ধে বলের নিয়ন্ত্রণ হারান বার্সেলোনার এই তরুণ তারকা। বল পেয়ে দুর্দান্ত ফুটওয়ার্কে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে পরাস্ত করেন ডিজায়ার দুয়ে। এরপর বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নিচু শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচে ফেরে বার্সেলোনা। ফারমিন লোপেজের পাস পেয়ে বক্সে ঢুকে জোরালো শটে গোল করেন তরুণ জাভি এসপার্ট। এটি ছিল তাঁর সিনিয়র ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় গোল।
এরপর বার্সেলোনার হয়ে মাঠে নামেন রদ্রি। দুই দলই আক্রমণের গতি বাড়ালে ম্যাচ আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফেরান তোরেসের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে পরের আক্রমণেই আবার এগিয়ে যায় পিএসজি।
কর্নার থেকে হেডে গোল করে পিএসজিকে দ্বিতীয়বারের মতো এগিয়ে দেন লুকাস এরনান্দেস। নিয়মিত লেফট-ব্যাক নুনো মেন্দেস না থাকায় লামিন ইয়ামালকে সামলানোর দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি। গোলটি ছিল পিএসজির হয়ে তাঁর তৃতীয় এবং ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির পর প্রথম।
গোল করে দারুণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি পেলেও কিছুক্ষণ পর কোচ লুইস এনরিকে তাঁকে তুলে নেন। বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ওয়ারেন জাইরে-এমেরি। তবে তাঁর একটি ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে আবারও সমতায় ফেরে বার্সেলোনা।
উঁচু হয়ে আসা বলের নিচে ঠিকমতো অবস্থান নিতে পারেননি জাইরে-এমেরি। সেই সুযোগে বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে গোল করেন ইয়ামাল। চলতি মৌসুমে এটি ছিল তাঁর দশম গোল। তাঁর গোলে ২-২ সমতায় ফেরার পর বার্সেলোনার সামনে অন্তত এক পয়েন্ট নিয়ে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু শেষদিকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় পিএসজি। ভিটিনহার দুর্দান্ত শটে আবারও এগিয়ে যাওয়ার পর রুইজের গোলে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
এই পরাজয় বার্সেলোনার জন্য ধাক্কা হলেও ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় পরবর্তী রাউন্ডে ওঠার সম্ভাবনায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ার কথা নয়। ম্যাচের আগে চলতি মৌসুমে টানা ১১ জয়ের ধারায় ছিল কাতালান ক্লাবটি। সেই ধারায় ছেদ পড়লেও গোল করার ছন্দ ধরে রেখেছে দলটি। ইয়ামালের গোলটি ছিল চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার ৫০তম গোল।
অন্যদিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা তিন জয় এবং সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা সাত জয়ে আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে পিএসজির। তবে ম্যাচটিতে চোটের কারণে দেম্বেলে ও কাভারাসখেলিয়াকে হারানো তাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। গত বছরের ব্যালন ডি’অরজয়ী দেম্বেলের চোট কতটা গুরুতর, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে দুয়ের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ছিল। নকআউট পর্বে ওঠার পথেও ভালো অবস্থানে রয়েছে লুইস এনরিকের দল।
গত ১৩ বছরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি ছিল দুই দলের মধ্যে ১৪তম লড়াই। তবে বার্সেলোনার সামনে এখন ঘরোয়া ফুটবলেও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। রোববার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে হারাতে পারলে লা লিগায় তাদের চেয়ে নয় পয়েন্টে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে কাতালানদের।
ম্যাচের শুরুতে বার্সেলোনার বেঞ্চে ছিলেন ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী রদ্রি। এর পেছনে এল ক্লাসিকোর বিষয়টি ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কিছুদিন চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকার পর একাদশে ফিরেছিলেন রাফিনিয়া।
সব মিলিয়ে, দুইবার সমতায় ফিরেও পিএসজির শেষদিকের আক্রমণ সামলাতে পারেনি বার্সেলোনা। ভিটিনহা ও রুইজের গুরুত্বপূর্ণ দুই গোলে জয় তুলে নিয়ে ইউরোপের মঞ্চে নিজেদের শক্ত অবস্থানের জানান দিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
Rent for add