রেকর্ড ব্যালন ডি’অর জিতে বোনমাতির পাশে পুতেয়াস

চোটের ধাক্কা, দীর্ঘ পুনর্বাসন আর হারানো ছন্দ ফিরে পাওয়ার লড়াই—সব পেরিয়ে আবারও বিশ্বসেরার মঞ্চে আলেক্সিয়া পুতেয়াস। নিজের নতুন শহর লন্ডনে সোমবার তৃতীয়বারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতে ক্যারিয়ারের কঠিন সময় পেছনে ফেলে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বীকৃতি পেলেন স্পেনের এই তারকা।

বার্সেলোনার সৃজনশীল প্রাণভোমরা হিসেবে ২০২১ ও ২০২২ সালে টানা দুইবার বিশ্বের সেরা নারী ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছিলেন পুতেয়াস। কিন্তু ২০২২ সালের ইউরোর প্রস্তুতির সময় লিগামেন্টে গুরুতর চোট তাঁর ক্যারিয়ারে বড় ধাক্কা হয়ে আসে। শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলা স্পেনের হয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার সুযোগও হারান তিনি।

চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরলেও আগের ছন্দ ফিরে পেতে সময় লেগেছে। ২০২৩ সালে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে সীমিত ভূমিকা রাখেন পুতেয়াস। ক্লাব ও জাতীয় দল—দুই জায়গাতেই সতীর্থ আইতানা বোনমাতির উত্থানে কিছুটা আড়ালে পড়ে যান তিনি। নিজের সেরা পারফরম্যান্সে ফিরতে প্রায় দুই বছর লেগে যায় তাঁর।

গত মাসে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুতেয়াস বলেন, ‘চোটে পড়ার পর থেকে আমি প্রতিটি মুহূর্ত এমনভাবে উপভোগ করার চেষ্টা করছি, যেন সেটিই আমার শেষ মুহূর্ত। কারণ, আপনি জানেন না, এমন ঘটনা আবার ঘটবে কি না।’

এদিকে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার ব্যালন ডি’অর জিতে নারী ফুটবলে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন বোনমাতি। তবে পায়ের হাড় ভেঙে যাওয়ায় তিনিও মাঠের বাইরে চলে যান। সতীর্থের অনুপস্থিতিতে পুতেয়াসের ওপর প্রত্যাশা আরও বেড়ে যায়। সেই চাপ সামলে গত মৌসুমে বার্সেলোনার চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

তৃতীয়বারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে পুতেয়াস বলেন, ‘আমি কখনোই মনে করিনি যে ব্যালন ডি’অরের ট্রফিটি আমারই। আগে একবার এই অভিজ্ঞতা হয়েছে বলে এবার আমি এটি আরও বেশি উপভোগ করতে পারছি।’

বার্সেলোনার হয়ে সম্ভাব্য প্রায় সবকিছু জয়ের পর এবার নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন পুতেয়াস। যোগ দিয়েছেন লন্ডন সিটি লায়নেসেসে। মার্কিন ব্যবসায়ী মিশেল ক্যাংয়ের মালিকানাধীন ক্লাবটি ইংল্যান্ডের শীর্ষ নারী ফুটবল লিগে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার পাশাপাশি প্রচলিত কাঠামোর বাইরে নতুন একটি ফুটবল-সংস্কৃতি গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।

৩২ বছর বয়সী পুতেয়াসের কাছে এই দলবদল কেবল ক্লাব পরিবর্তন নয়, বরং জীবনের নতুন অধ্যায়। তিনি বলেন, ‘এটি আমার জীবনে সম্পূর্ণ পরিবর্তন। সংস্কৃতি, ভাষা, নতুন দেশ ও নতুন শহরে বসবাস—সবকিছুই প্রতিদিন শেখার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।’

বার্সেলোনার সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের ইতি টেনে নতুন ক্লাবে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম, বার্সেলোনায় আমার সময় শেষ করতে হলে পরবর্তী অধ্যায়ে আগের অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি করার খুব একটা অর্থ থাকবে না। মূলত, সেটি অসম্ভবও। আমার এমন কিছু দরকার ছিল, যা সম্পূর্ণ আলাদা। এটি প্রায় নতুন একটি ক্লাব, যেখানে সবকিছুই এখনো গড়ে তোলা বাকি। তাই আমি আমার জয়ের সংস্কৃতি ও মানসিকতা এখানে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।’

ইংলিশ নারী সুপার লিগে এরই মধ্যে পুতেয়াসের দলবদলের প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পয়েন্ট তালিকায় লন্ডন সিটি রয়েছে চেলসি ও ম্যানচেস্টার সিটির পেছনে, ঐতিহ্যবাহী শক্তি আর্সেনালের ওপরে। নতুন ক্লাবের হয়ে পুতেয়াসের পারফরম্যান্স তাই বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে।

আগামী বছর বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে স্পেনের জন্যও তাঁর এই নতুন অধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। চলতি মৌসুমে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় না খেলায় ম্যাচের চাপ তুলনামূলক কম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে জাতীয় দলের হয়ে বড় টুর্নামেন্টের আগে নিজের ফিটনেস ও পারফরম্যান্স ধরে রাখার সুযোগ পেতে পারেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে পুতেয়াস বলেন, ‘সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বিষয়টি আমার বিবেচনায় ছিল। সামনে এখনো অনেক পথ বাকি। আপাতত প্রতিদিনের কাজেই আমার মনোযোগ। তবে আমি বিশ্বাস করি, এ ধরনের পরিবেশই আমাকে নিজের সেরা পারফরম্যান্স দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করবে।’

চোটের কারণে একসময় যে ক্যারিয়ার অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল, সেই পুতেয়াসই এখন তৃতীয় ব্যালন ডি’অর হাতে নিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখছেন। বার্সেলোনার সাফল্যের অধ্যায় পেছনে ফেলে লন্ডনে নতুন জীবন গড়ার পাশাপাশি স্পেনের হয়ে আরও বড় অর্জনের লক্ষ্যও তাঁর সামনে।

Rent for add

সর্বশেষ নিউজ

for rent