স্পোর্টস ডেস্ক : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার, ২০:১০:৪৯

জাতীয় দলে ফেরার চেয়ে না ফেরার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন এলমা অ্যাভেইরো; আস্থার সংকট ও শাস্তিমূলক প্রক্রিয়ায় অনিশ্চিত রোনালদোর ভবিষ্যৎ
পর্তুগাল জাতীয় দলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে। কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে সাম্প্রতিক বিরোধের জেরে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার মুখ খুলেছেন রোনালদোর বোন এলমা অ্যাভেইরো। তাঁর মতে, ভাইয়ের আবারও পর্তুগালের জার্সিতে মাঠে ফেরার চেয়ে না ফেরার সম্ভাবনাই এখন বেশি। একই সঙ্গে পারস্পরিক বিশ্বাসে আঘাত লাগলে সম্পর্ক আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া যে কঠিন, সেটিও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিরতিতে পর্তুগালের নেশনস লিগের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়ের ম্যাচে তাঁকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখার পর এই ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে রোনালদো ও কোচ জেসুসের মধ্যে টানাপোড়েনের খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা।
বুধবার একটি বই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রোনালদোর জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন এলমা। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ওই অনুষ্ঠানেই উপস্থিত ছিলেন কোচ হোর্হে জেসুস।
রোনালদোর জাতীয় দলে ফেরার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এলমা অ্যাভেইরো বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর ভাইয়ের ফিরে আসার চেয়ে না ফেরার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘হ্যাঁর চেয়ে না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আমার মনে হয়, দুজনই আঘাত পেয়েছেন। পরিস্থিতিটি তাঁরা দুজনই মোকাবিলা করেছেন, আমি নই। আমি আমার ভাইয়ের হয়ে কথা বলছি।’
পরিস্থিতির জটিলতা তুলে ধরে এলমা আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, বিষয়টি এক জায়গায় আটকে আছে। দেখা যাক, কী হয়। আমি জানি না, ব্যাপারটি খুবই জটিল। যখন আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়, তখন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাওয়া খুব কঠিন।’
এলমার বক্তব্যে স্পষ্ট, রোনালদো ও জেসুসের মধ্যকার বিরোধ কেবল তাৎক্ষণিক অসন্তোষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; পারস্পরিক আস্থার প্রশ্নটিও সামনে এসেছে। তবে দুই পক্ষের মধ্যে শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
পর্তুগিজ ফুটবলে রোনালদোর অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তাঁর বোন। এলমার মতে, দেশের ফুটবলে দীর্ঘদিনের অর্জন ও অবদানের জন্য রোনালদোর আরও বেশি সম্মান প্রাপ্য।
ভাইকে ঘিরে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তাঁকে কষ্ট দিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন এলমা। তাঁর মন্তব্যে রোনালদোর প্রতি পরিবারের সমর্থন যেমন উঠে এসেছে, তেমনি জাতীয় দলে তাঁর অবস্থান ও প্রাপ্য স্বীকৃতি নিয়েও অসন্তোষের ইঙ্গিত মিলেছে।
এদিকে রোনালদোর মা দোলোরেস অ্যাভেইরোর প্রতিক্রিয়াও আলোচনায় এসেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছেলের এমন সিদ্ধান্তে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। সব মিলিয়ে, ঘটনাটি রোনালদোর পারিবারিক পরিমণ্ডলেও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
রোনালদোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া চলার বিষয়টিও সামনে এসেছে। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্ত চলাকালে তাঁর বিরুদ্ধে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তদন্তের চূড়ান্ত ফল এবং সম্ভাব্য শাস্তি সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
তদন্তের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করায় রোনালদোর বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, তা স্পষ্ট নয়। সম্ভাব্য শাস্তি তাঁর পরবর্তী আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে অংশগ্রহণে প্রভাব ফেলবে কি না, সেটিও এখনো অনিশ্চিত।
ফলে রোনালদোর জাতীয় দলে ফেরার প্রশ্নটি শুধু কোচের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। শাস্তিমূলক প্রক্রিয়ার ফলও তাঁর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিরোধের খবর ছড়িয়ে পড়লেও রোনালদোকে আবারও জাতীয় দলে দেখতে চান তাঁর সতীর্থরা। পর্তুগালের মিডফিল্ডার ভিতিনহা দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার প্রত্যাশা জানিয়ে বলেছেন, পরিস্থিতির সবচেয়ে ভালো সমাধান হওয়াই সবার কাম্য।
ভিতিনহা বলেন, ‘আমার পক্ষ থেকে আমি শুধু আশা করি, সবকিছু যেন সবচেয়ে ভালোভাবে সমাধান হয়। আমি আশা করি, সে ফিরে আসবে এবং সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। সত্যি বলতে, আমরা সবাই এটাই চাই। আমি আশা করি, সে ফিরে আসবে এবং সবকিছু মিটে যাবে।’
ভিতিনহার বক্তব্যে সতীর্থদের প্রত্যাশা স্পষ্ট। অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডকে আবারও জাতীয় দলের জার্সিতে দেখতে চান তাঁরা। সে জন্য দুই পক্ষের বিরোধের অবসান ঘটিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এলমা অ্যাভেইরোর সাম্প্রতিক মন্তব্যে রোনালদোর জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর মতে, দুই পক্ষই মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছে এবং পরিস্থিতি সহজে স্বাভাবিক হওয়ার নয়।
তবে বোনের এই মন্তব্যই যে রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারণ করছে, তা নয়। কোচের সঙ্গে বিরোধের সমাধান, পারস্পরিক আস্থা পুনরুদ্ধার এবং শাস্তিমূলক প্রক্রিয়ার ফল—সবকিছুই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
রোনালদো আবারও পর্তুগালের জার্সিতে মাঠে ফিরবেন, নাকি এই বিরোধ তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে নতুন মোড় আনবে, এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে ফুটবলবিশ্ব।
Rent for add