স্পোর্টস ডেস্ক : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, ১৮:০৬:৪৩

বিশ্বকাপ থেকে ফিফার আয় করা বিপুল অর্থের একটি অংশ ২১১ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে বণ্টনের প্রস্তাবে নীতিগতভাবে সম্মতি জানিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও (বাফুফে) এই অর্থের অংশ পেতে পারে। তবে কোন সদস্য অ্যাসোসিয়েশন কত অর্থ পাবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা ও উত্তর, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় ফুটবল কনফেডারেশন কনকাকাফ প্রতিটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের জন্য অন্তত ১০ মিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। ২১১ সদস্যকে এই হারে অর্থ দেওয়া হলে মোট বণ্টনের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ২.১ বিলিয়ন ডলার। প্রস্তাবটি ২০২৭–৩০ চক্রের জন্য এবং বিদ্যমান ফিফা ফরোয়ার্ড কর্মসূচির অর্থের অতিরিক্ত হিসেবে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ফিফা সভাপতির একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, অর্থের পরিমাণ, বণ্টনের পদ্ধতি ও আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আগামী ১৫ অক্টোবর ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা। ততক্ষণ পর্যন্ত ১০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবকে কোনো চূড়ান্ত অনুমোদিত অর্থ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।
ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, ফিফার আর্থিক সাফল্যের সুফল সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর ফুটবল উন্নয়নে কাজে লাগানো উচিত। তবে অর্থ বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নিরীক্ষাযোগ্য ব্যবস্থা এবং ফিফার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
এই প্রস্তাবের পেছনে ফিফার আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। উয়েফা ও কনকাকাফের হিসাবে, ২০২৬ বিশ্বকাপের পর ফিফার রিজার্ভ প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী ২১১ সদস্যকে ১০ মিলিয়ন ডলার করে দিলেও ফিফার হাতে উল্লেখযোগ্য রিজার্ভ থাকবে।
এর আগে বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্বে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পরিকল্পনাটি শেষ পর্যন্ত পরিত্যক্ত হয়। এরপরই ফিফার রিজার্ভ থেকে সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব সামনে আসে।
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও প্রস্তাবটির বিষয়ে সমর্থন জানিয়েছে। অন্যদিকে ওশেনিয়া ফুটবল কনফেডারেশন উন্নয়নশীল অঞ্চলের কাঠামোগত ব্যয়ের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছে।
সব প্রস্তাব একত্র করে ফিফা কাউন্সিলের কাছে একটি সমন্বিত মূল্যায়ন উপস্থাপন করা হবে। এরপরই ঠিক হবে সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া হবে কি না, দিলে কত এবং কীভাবে দেওয়া হবে।
তাই আপাতত বাংলাদেশের জন্যও সম্ভাবনার দরজা খুলেছে। তবে ১৫ অক্টোবরের ফিফা কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের আগে বাংলাদেশের প্রাপ্য অর্থের কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
Rent for add