স্পোর্টস ডেস্ক : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, ১৮:০১:১৭

শুরুটা হয়েছে জয় দিয়ে, পরের ম্যাচেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখল ফ্রান্স। অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ছাড়াই বেলজিয়ামের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ে ১–০ গোলের জয় পেয়েছে তারা। মাইকেল ওলিসের একমাত্র গোলে উয়েফা নেশনস লিগে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে জিনেদিন জিদানের দল।
ব্রাসেলসে গত রাতে উয়েফা নেশনস লিগের এ১ গ্রুপের ম্যাচে ফ্রান্সের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন বদলি হিসেবে মাঠে নামা ওলিসে। এই জয়ে দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে ফ্রান্স। সমান ম্যাচে বেলজিয়াম ও ইতালির সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট করে। তুরস্ক এখনো পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি।
প্রথম ম্যাচে তুরস্ককে ১–০ গোলে হারিয়ে আসর শুরু করেছিল ফ্রান্স। অন্যদিকে বেলজিয়াম তাদের প্রথম ম্যাচে ইতালিকে হারিয়েছিল ২–০ গোলে। ফলে দুই দলের লড়াইটি ছিল গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তবে ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা খায় ফ্রান্স। তুরস্কের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বাঁ হাঁটুতে চোট পাওয়া অধিনায়ক এমবাপ্পে খেলতে পারেননি। তাঁর অনুপস্থিতিতে আগের ম্যাচের শুরুর একাদশ থেকে মোট নয়টি পরিবর্তন আনেন জিদান। ম্যাচটি আবার ছিল তিন খেলোয়াড়ের জন্য অভিষেকের উপলক্ষ। ফ্রান্সের জার্সিতে প্রথমবার মাঠে নামেন জেহেমি জ্যাক, আঁদি দিউফ ও লুকা দা কুইয়ার।
এত পরিবর্তন নিয়েও শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ফ্রান্স। ১২ মিনিটে গোলের কাছাকাছি চলে গিয়েছিল তারা। বক্সের ভেতর থেকে দেজিরে দুয়ের নেওয়া শট বেলজিয়ামের ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
ছয় মিনিট পর আবারও সুযোগ তৈরি করে ফ্রান্স। লুকাস দা চুনার পাস ধরে বেলজিয়ামের বিপদসীমায় ঢুকে পড়েন এস্তেবান লেপল। তবে তাঁর নেওয়া শট সহজেই তালুবন্দী করেন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক সেনে ল্যামেন্স।
২২ মিনিটে প্রথমবারের মতো ফ্রান্সের রক্ষণে বড় পরীক্ষা নেয় বেলজিয়াম। বাঁ দিক থেকে কেভিন ডি ব্রুইনার বাড়ানো বলে পা ছোঁয়ানোর চেষ্টা করেছিলেন শার্লে ডে কেটলার। কিন্তু ঠিকমতো সংযোগ করতে পারেননি তিনি।
এরপর দুই দলই আক্রমণে ওঠানামা করলেও প্রথমার্ধে আর গোলের দেখা মেলেনি। ০–০ সমতায় বিরতিতে যায় ম্যাচ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বেলজিয়াম। ৪৯ মিনিটে রোমেও লাভিয়ার বাড়ানো বল পেয়ে বক্স থেকে শট নেন ডি ব্রুইনা। কিন্তু তাঁর শট ফ্রান্সের গোলপোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচের গতি কিছুটা বাড়লেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না কোনো দল। এমন সময় ৭৭ মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে মাঠে নামেন মাইকেল ওলিসে। ব্রাডলি বাহকোলার বদলি হিসেবে মাঠে নেমে মাত্র ১১ মিনিটের মধ্যেই নিজের উপস্থিতির জানান দেন তিনি।
৮৮ মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত গোল। রায়ান শেরকির কাছ থেকে পাওয়া বল নিয়ে দ্রুত গতিতে বেলজিয়ামের বক্সে ঢুকে পড়েন ওলিসে। সামনে থাকা একজন প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে কাটিয়ে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে বল পাঠান জালে। তাঁর নিখুঁত শটে পরাস্ত হন ল্যামেন্স। ১–০ গোলে এগিয়ে যায় ফ্রান্স।
শেষ কয়েক মিনিটে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করেছিল বেলজিয়াম। কিন্তু ফ্রান্সের রক্ষণ আর কোনো সুযোগ দেয়নি। শেষ পর্যন্ত ওলিসের একমাত্র গোলেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সফরকারীরা।
এই জয়টি জিদানের জন্যও বিশেষ। ফ্রান্সের জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দুই ম্যাচেই জয় পেলেন সাবেক এই তারকা মিডফিল্ডার। ফ্রান্সের ইতিহাসে কোচ হিসেবে নিজের প্রথম দুই ম্যাচে জয় পাওয়া চতুর্থ কোচ তিনি।
এর আগে ১৯৬৪ সালে হেনরি গুয়েরিন, ১৯৮৪ সালে হেনরি মিচেল এবং ১৯৯৪ সালে আইমে জ্যাক ফ্রান্সের কোচ হিসেবে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচেই জয় পেয়েছিলেন। দীর্ঘ ৩২ বছর পর সেই তালিকায় নতুন নাম হিসেবে যোগ হলো জিদানের।
এমবাপ্পের অনুপস্থিতিতে দলকে জেতানোর পাশাপাশি একাধিক নতুন খেলোয়াড়কে পরখ করে নেওয়ার সুযোগও পেলেন জিদান। আর শেষ মুহূর্তে ওলিসের দুর্দান্ত গোল এনে দিল নেশনস লিগে ফ্রান্সের টানা দ্বিতীয় জয়।
Rent for add