এমবাপ্পের জোড়া গোলে এল ক্লাসিকোয় হারলো বার্সেলোনা

বার্সেলোনা ১ : ২ রিয়াল মাদ্রিদ

কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোলে মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোয় বার্সেলোনাকে ২–১ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। রোববার রাতে বার্সেলোনার মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে এই জয়ে লা লিগার শীর্ষে থাকা কাতালানদের সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান তিনে নামিয়ে এনেছে হোসে মরিনিওর দল। একই সঙ্গে লিগে মৌসুমের প্রথম হারের স্বাদ পেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা।

ম্যাচের প্রথমার্ধে ৪১ মিনিটে এমবাপ্পের গোলে এগিয়ে যায় রিয়াল। দ্বিতীয়ার্ধের ৬১ মিনিটে রাফিনিয়া সমতা ফেরালেও শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের রক্ষা হয়নি। ৮৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে রিয়ালের জয় নিশ্চিত করেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। এ জয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পঞ্চম জয় পেল স্প্যানিশ জায়ান্টরা।

ম্যাচ শেষে দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন রিয়াল কোচ মরিনিও। তাঁর মতে, প্রতিপক্ষের চাপ সামলে নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারাটাই ছিল জয়ের অন্যতম চাবিকাঠি।

মরিনিও বলেন, ‘আমার দল অসাধারণ খেলেছে। আমরা ছিলাম সুসংগঠিত, মনোযোগী ও সাহসী। প্রতিপক্ষ যখন প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে, তখন নিজেদের রক্ষণভাগ থেকে বল বের করে আনার জন্য যে সাহস প্রয়োজন, আমাদের তা ছিল।’

সমতায় ফেরার পরও দল ধৈর্য হারায়নি উল্লেখ করে রিয়াল কোচ আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় গোল করার সুযোগ আমাদের ছিল। বার্সেলোনা জোরালোভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমরা শান্ত ও সুসংগঠিত ছিলাম। ১–১ সমতায় ফেরার পরও আমরা ধৈর্য হারাইনি।’

মৌসুমের প্রথম নয়টি লিগ ম্যাচেই জয় পেয়েছিল বার্সেলোনা। কিন্তু এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুটি পরাজয় হজম করতে হলো হান্সি ফ্লিকের দলকে। মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির কাছে হারের পর এবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়ালের কাছে হারল তারা।

বার্সেলোনা কোচ ফ্লিক বলেন, ‘আজ আপনারা দেখেছেন, আমাদের মধ্যে সতেজতার অভাব ছিল। লা লিগায় এটাই আমাদের প্রথম হার। এর আগে টানা নয়টি ম্যাচ জিতেছিলাম। এখন বিষয়টি আমাদের বিশ্লেষণ করতে হবে।’

পরাজয়কে খেলার অংশ হিসেবে উল্লেখ করে ফ্লিক আরও বলেন, ‘আমাদের উন্নতি করতে হবে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ঘুরে দাঁড়ানো।’

শুরুতে সতর্ক, পরে আক্রমণাত্মক

ম্যাচের শুরুতে দুই দলই সতর্ক ফুটবল খেলায় গোলের সুযোগ তৈরি হয়েছে কম। রিয়ালের আক্রমণভাগকে শুরুতে সামাল দিতে সক্ষম হয় বার্সেলোনার রক্ষণভাগ। অন্যদিকে স্বাগতিকদের আক্রমণও দক্ষতার সঙ্গে প্রতিহত করে সফরকারীরা।

প্রথমার্ধে দুই দলই গোলের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করলেও এগিয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয় ৪১ মিনিট পর্যন্ত। এ সময় সতীর্থ ইয়ান দিয়োমান্দের ক্রস থেকে আসা বল বার্সেলোনার ডিফেন্ডার জেরার্ড মার্তিনের গায়ে লেগে এমবাপ্পের সামনে চলে আসে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল জালে পাঠান ফরাসি তারকা।

গোল হজমের পর দ্রুত সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল বার্সেলোনা। কিন্তু তরুণ ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। বিরতির আগে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিল রিয়ালও। তবে দিয়োমান্দের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের গতি বাড়ায় বার্সেলোনা। ৬১ মিনিটে পেদ্রির পাস থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান রাফিনিয়া। বক্সের ভেতর থেকে তাঁর নেওয়া শটে রিয়ালের গোলরক্ষক আন্দ্রি লুনিনকে পরাস্ত হতে হয়। এরপর ম্যাচে ফের এগিয়ে যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে দুই দল।

সমতা ফেরানোর পর বার্সেলোনা বেশ কয়েকটি আক্রমণ গড়ে তোলে। কর্নার থেকে জেরার্ড মার্তিনের নেওয়া শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন লুনিন। লামিন ইয়ামালের একটি শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। স্বাগতিকদের আক্রমণ সামলে পাল্টা আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করে রিয়ালও।

শেষ পর্যন্ত ৮৭ মিনিটে নির্ধারিত হয় ম্যাচের ভাগ্য। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠে বল নিয়ে এগিয়ে যান রিয়ালের খেলোয়াড়েরা। এডুয়ার্দো কামাভিঙ্গার পাস থেকে বল পেয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠান এমবাপ্পে। তাতেই নিশ্চিত হয় রিয়ালের ২–১ গোলের জয়।

শিরোপার লড়াই জমিয়ে তুলল রিয়াল

২০২৪ সালে পিএসজি থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ক্লাবটির হয়ে ১০০ গোলের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন এমবাপ্পে। এল ক্লাসিকোয় তাঁর এই জোড়া গোল শুধু রিয়ালকে গুরুত্বপূর্ণ জয়ই এনে দেয়নি, লিগের শিরোপার লড়াইকেও আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে।

পয়েন্ট তালিকায় বার্সেলোনা শীর্ষে থাকলেও তাদের পেছনে রয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ ও রিয়াল মাদ্রিদ। মৌসুমের শুরুতে টানা জয় পাওয়া বার্সেলোনার জন্য এই পরাজয় ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অন্যদিকে মরিনিওর অধীনে ছন্দ ফিরে পাওয়া রিয়াল এই জয় থেকে আত্মবিশ্বাস পাবে।

এল ক্লাসিকোর এই ফল তাই শুধু দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়; বরং লা লিগার শিরোপার দৌড়েও নতুন মাত্রা যোগ করল।

Rent for add

সর্বশেষ নিউজ

for rent