দুই প্রজন্মের ফুটবল তারকাদের মিলনমেলা

২-১ গোলে জিতল এসএ গেমসের সোনাজয়ীরা

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রচার-প্রচারণার অংশ হিসেবে রোববার বিকেলে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে বসেছিল বাংলাদেশের ফুটবলের দুই সোনালি প্রজন্মের মিলনমেলা। ২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়ন ও ২০১০ সালের এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ী দলের ফুটবলাররা নেমেছিলেন এক ব্যতিক্রমী প্রীতি ম্যাচে। ১৬ বছর পর একই মাঠে দুই প্রজন্মের তারকাদের এমন পুনর্মিলন ফিরিয়ে এনেছিল দেশের ফুটবলের গৌরবময় অতীত।

২০০৩ সালে এই জাতীয় স্টেডিয়ামেই প্রথমবারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। সাত বছর পর, ২০১০ সালে একই মাঠে এসএ গেমসের ফুটবলে স্বর্ণপদক জয়ের কীর্তি গড়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সেই দুই ঐতিহাসিক সাফল্যের নায়কদের মুখোমুখি লড়াই দেখতে স্টেডিয়ামে হাজির হয়েছিলেন দর্শক-সমর্থকেরা। গ্যালারিতে দর্শকের উপস্থিতি খুব বেশি না থাকলেও মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে ও বসে অনেকেই উপভোগ করেছেন স্মৃতিময় এই আয়োজন।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের আগ্রহ ও উদ্যোগেই আয়োজন করা হয়েছিল এই প্রীতি ম্যাচের। মজার ব্যাপার, তিনি নিজেও ছিলেন দুই ঐতিহাসিক সাফল্যের দলের সদস্য। রোববার ৬০ মিনিটের ম্যাচে দুই দলের হয়েই খেলেছেন দেশের অন্যতম সেরা এই গোলরক্ষক। প্রথমার্ধে ২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়ন দলের হয়ে এবং দ্বিতীয়ার্ধে ২০১০ সালের এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ী দলের জার্সিতে মাঠে নামেন তিনি।

দুই দলের ফুটবলারদের গায়েও ছিল তাঁদের ঐতিহাসিক সাফল্যের সময়কার জার্সির আদলে তৈরি পোশাক। আমিনুল হকও বদলেছেন জার্সি ও পজিশন। সাফ চ্যাম্পিয়ন দলের হয়ে ৯ নম্বর জার্সি গায়ে খেলেছেন আক্রমণভাগে। আর এসএ গেমসের স্বর্ণজয়ী দলের হয়ে পরেছেন নিজের চিরচেনা ১ নম্বর জার্সি।

মাঠের লড়াইয়ে অবশ্য শেষ হাসি হেসেছে এসএ গেমসের স্বর্ণজয়ী দল। ২-১ গোলের ব্যবধানে জিতেছে তারা। বিজয়ী দলের হয়ে গোল করেছেন নাসিরুল ইসলাম নাসির ও মিঠুন চৌধুরী। অন্যদিকে ২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়ন দলের হয়ে ব্যবধান কমিয়েছেন আলফাজ আহমেদ। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর তাঁর গোলেই সমতায় ফিরেছিল দলটি। তবে শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারেনি তারা।

ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল এসএ গেমসের দল। ম্যাচের শেষ দিকে পেনাল্টিও আদায় করে নেয় তারা। কিন্তু আমিনুল হকের দুর্বল শট সহজেই আটকে দেন সাফ চ্যাম্পিয়ন দলের গোলরক্ষক বিপ্লব ভট্টাচার্য্য। ফলে ৩-১ গোলের জয় পাওয়া হয়নি স্বর্ণজয়ীদের।

ম্যাচের বিরতিতে প্রয়াত অস্ট্রিয়ান কোচ জর্জ কোটানের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। ২০০৩ সালে বাংলাদেশকে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতানো এই কোচের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই ছিল বিশেষ আয়োজন। ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মারা যান বাংলাদেশের ফুটবলের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকা এই কোচ।

ফলাফল ছাপিয়ে দিনটির বড় প্রাপ্তি ছিল দুই প্রজন্মের ফুটবলারদের একসঙ্গে মাঠে ফেরা। বাংলাদেশের ফুটবলের সোনালি সময়ের নায়কদের এমন পুনর্মিলন দর্শকদের মনে করিয়ে দিয়েছে জাতীয় ফুটবলের গৌরবময় দুই অধ্যায়।

Rent for add

সর্বশেষ নিউজ

for rent