৪৪ বছর পর সেই ইতিহাসের সামনে বাংলাদেশ

দীর্ঘ অপেক্ষার পর নতুন এক আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিষেক হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের। ফিফা আসিয়ান কাপের ম্যাচে শুক্রবার বিকেলে শক্তিশালী মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে হামজা দেওয়ান চৌধুরী, জামাল ভূঁইয়াদের বাংলাদেশ। র‌্যাংকিং কিংবা সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স—দুই বিচারে এগিয়ে মালয়েশিয়া। মাঠের লড়াইয়ে তাই বাংলাদেশের সামনে কঠিন পরীক্ষাই অপেক্ষা করছে।

তবে বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বাংলাদেশের সামনে রয়েছে একটি পুরোনো স্মৃতি। এমনই এক মঞ্চে নয়, এশিয়ান গেমসের আসরে ৪৪ বছর আগে এই মালয়েশিয়াকেই হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই জয় আজও দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসে বাংলাদেশের একমাত্র জয় হয়ে আছে।

১৯৮২ সালের দিল্লি এশিয়ান গেমসে মালয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক সেই জয়ে গোল করেছিলেন আশীষ ভদ্র ও বাদল রায়। সময়ের স্রোতে চার দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। প্রজন্ম বদলেছে, বদলেছে দুই দেশের ফুটবলের বাস্তবতা। কিন্তু সেই জয়টি এখনো বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ এক অধ্যায় হয়ে আছে।

এরপর দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে বাংলাদেশের সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি আর হয়নি। বরং বেশির ভাগ সময়ই আধিপত্য দেখিয়েছে মালয়েশিয়া। সর্বশেষ ২০২২ সালের এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে মালয়েশিয়ার কাছে ৪-১ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। অবশ্য তার আগের দুই সাক্ষাতে হারেনি লাল-সবুজের দল। ২০১৫ ও ২০১২ সালের দুটি প্রীতি ম্যাচেই ড্র করেছিল বাংলাদেশ।

অতীতের সেই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, শুক্রবারের ম্যাচে বাংলাদেশের জন্য কাজটা সহজ হবে না। তবে এবারের দলটির গল্প কিছুটা আলাদা। নতুন একটি প্রতিযোগিতায় নিজেদের সামর্থ্য তুলে ধরার সুযোগ এসেছে বাংলাদেশের সামনে। আর সেই দলটিতে রয়েছে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও ভিন্ন পরিবেশে খেলার অভিজ্ঞতা থাকা কয়েকজন ফুটবলার।

জামাল ভূঁইয়ার নেতৃত্বের পাশাপাশি দলে আছেন ইউরোপীয় ফুটবলে অভিজ্ঞ হামজা দেওয়ান চৌধুরী। বিদেশের লিগে খেলা শামিত সোম, জায়ানসহ আরও কয়েকজন ফুটবলারের উপস্থিতিও জাতীয় দলকে দিয়েছে নতুন মাত্রা। স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের ঘিরে বাংলাদেশের সমর্থকদের প্রত্যাশাও বেড়েছে।

তবে কাগজে-কলমের হিসাব মাঠের লড়াইয়ে কতটা কাজে আসে, সেটিই বড় প্রশ্ন। মালয়েশিয়ার শক্তি সম্পর্কে ভালোভাবেই অবগত বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ। প্রতিপক্ষের শক্তি যেমন বিবেচনায় থাকছে, তেমনি নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ খেলার লক্ষ্যও রয়েছে দলের।

বাংলাদেশের জন্য তাই শুক্রবারের ম্যাচটি শুধু নতুন একটি প্রতিযোগিতায় অভিষেক নয়; অতীতের একটি স্মৃতিকেও নতুন করে সামনে আনার সুযোগ। ১৯৮২ সালে দিল্লিতে যে মালয়েশিয়াকে হারিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছিল বাংলাদেশ, ৪৪ বছর পর সেই প্রতিপক্ষের সামনেই দাঁড়িয়ে নতুন প্রজন্ম।

পুরোনো সেই জয় হয়তো মাঠে নামা বর্তমান দলের কোনো ফলের নিশ্চয়তা দেবে না। কিন্তু কঠিন ম্যাচের আগে ইতিহাস কখনো কখনো আত্মবিশ্বাসের জায়গা তৈরি করে। সেই আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গে নিয়েই মালয়েশিয়ার বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্যের পরীক্ষা দিতে নামবে বাংলাদেশ।

৪৪ বছর আগের সেই জয় এবার নতুন কোনো গল্পের জন্ম দিতে পারে কি না—তার উত্তর মিলবে মাঠের লড়াই শেষেই।

Rent for add

সর্বশেষ নিউজ

for rent