স্পোর্টস ডেস্ক : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার, ১৭:৫৭:১৯

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের হতাশা কাটিয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল ব্রাজিল। দুই ম্যাচের প্রীতি সিরিজের দ্বিতীয়টিতে স্বাগতিকদের ৪-২ গোলে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া সফর শেষ করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে জয়টি সহজে আসেনি। শুরুতে এগিয়ে গিয়েও দুই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়েছিল ব্রাজিল। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় কার্লো আনচেলত্তির দল।
মঙ্গলবার ব্রিসবেনের সানকর্প স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ব্রাজিলের হয়ে গোল করেন ভ্যান্ডারসন, রাফিনহা, ব্রুনো গিমারায়েস ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে গোল দুটি করেন আলেসান্দ্রো চিরকাতি ও কনর মেটকাফ। ম্যাচটি দেখতে স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন ৫২ হাজার ৪২৩ দর্শক।
দুই দলের প্রথম ম্যাচটি হয়েছিল টাউনসভিলে। সেখানে ২-২ গোলে ড্র করেছিল ব্রাজিল ও অস্ট্রেলিয়া। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচে জয় পাওয়াই ছিল আনচেলত্তির দলের জন্য অস্ট্রেলিয়া সফরের একমাত্র জয় নিশ্চিত করার সুযোগ। শেষ পর্যন্ত সেটিই করেছে ব্রাজিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ব্রাজিল। মাত্র তৃতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। ডান প্রান্ত দিয়ে দ্রুত আক্রমণ গড়ে বক্সে ঢুকে সতীর্থদের সঙ্গে পাস বিনিময়ের পর বল পান ভ্যান্ডারসন। মোনাকোর এই ডিফেন্ডার নিখুঁত শটে বল পাঠান অস্ট্রেলিয়ার জালে। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল।
এরপর ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগও পেয়েছিল অতিথিরা। রাফিনহার পরপর দুটি প্রচেষ্টা দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক প্যাট বিচ। ফলে দ্রুত দুই গোলের লিড নেওয়া হয়নি ব্রাজিলের।
২৮ মিনিটে অবশ্য ম্যাচে সমতা ফেরায় অস্ট্রেলিয়া। কর্নার থেকে আসা বলে আলেসান্দ্রো চিরকাতি দারুণ ফ্লিকে ব্রাজিলের জালে বল পাঠান। প্রথমে অফসাইডের সংকেত দেওয়া হলেও ভিএআরের পর গোলের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।
সমতায় ফেরার পর আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে অস্ট্রেলিয়া। মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে ম্যাচের চিত্রও পাল্টে যায়। ৩৩ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে ব্রাজিলের গোলরক্ষক ওটাভিওকে পরাস্ত করেন কনর মেটকাফ। ২-১ গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
তবে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ম্যাচে সমতা ফেরায় ব্রাজিল। ডি-বক্সে ব্রুনো গিমারায়েসের পাস ধরে এগিয়ে যাওয়া দানিলোনিজস্ব প্রতিবেদকে ফাউল করেন অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি সাউটার। ভিএআর পর্যালোচনার পর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন জাপানি রেফারি ইউসুকে আরাকি। স্পটকিক থেকে গোল করে ৪৪ মিনিটে ব্রাজিলকে ২-২ সমতায় ফেরান রাফিনহা।
বিরতির পর ব্রাজিলের একাদশে পরিবর্তন আনেন আনচেলত্তি। চোটের শঙ্কায় রাফিনহাকে তুলে নিয়ে মাঠে নামানো হয় এন্ড্রিককে। পরে রাফিনহার ডান পায়ের পেশিতে অস্বস্তির কথা জানায় ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। পরবর্তী পরীক্ষায় ডান উরুর পেছনের অংশে পেশির সমস্যা ধরা পড়ায় তাকে ভারতের বিপক্ষে পরের ম্যাচের দল থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয়ার্ধে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ব্রাজিল। ৬৯ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত তৃতীয় গোল। এন্ড্রিক ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সমন্বয়ে তৈরি আক্রমণ থেকে বল পেয়ে ব্রুনো গিমারায়েস জালে পাঠান। ৩-২ গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। গোলটি ছিল জাতীয় দলের হয়ে গিমারায়েসের ৫০তম ম্যাচে করা গোল—ফলে দিনটি তার জন্য হয়ে ওঠে আরও স্মরণীয়।
এরপর ম্যাচে উত্তেজনাও ছড়ায়। এন্ড্রিককে ঘিরে অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়দের সঙ্গে ব্রাজিলের ফুটবলারদের উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে সেই উত্তেজনা সামলে ম্যাচের শেষ দিকে আবারও ব্যবধান বাড়ায় ব্রাজিল।
৮০ মিনিটে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। স্পটকিক থেকে গোল করে ব্যবধান ৪-২ করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এরপর আর কোনো গোল না হলে ৪-২ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।
এই জয়টি আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিলের নতুন পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ। সর্বশেষ বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটিই ছিল তাদের প্রথম জয়। প্রথম ম্যাচে ২-২ ড্রয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে চার গোল করে জয় পাওয়ায় দুই ম্যাচের সফর শেষ হলো এক জয় ও এক ড্র নিয়ে।
অস্ট্রেলিয়া সফরের পর ব্রাজিল এখন ভারতের পথে। আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারতের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে আনচেলত্তির দল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় তাই ব্রাজিলের জন্য শুধু সফরের শেষ ম্যাচের ফল নয়, ২০৩০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পর্বে নতুন দলের সমন্বয় ও তরুণদের পরখ করার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও হয়ে থাক
Rent for add