স্পোর্টস ডেস্ক : ৫ মার্চ ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ২৩:৫৯:৩১

প্রথমবারের মতো এএফসি উইমেন’স এশিয়ান কাপে অংশ নিয়েই আলোচনায় উঠে এসেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী চীনের কাছে ২-০ গোলে হারলেও বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল লড়াকু ও আত্মবিশ্বাসী। সেই ম্যাচ দেখেই সতর্ক হয়ে গেছে পরবর্তী প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়া। সূত্র: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় সিডনির ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল।
ফিফা র্যাংকিংয়ে ৯ নম্বরে থাকা উত্তর কোরিয়া বাংলাদেশের (১১২) চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকলেও ম্যাচটি সহজ হবে না বলেই মনে করছেন তাদের কোচ।চীন-বাংলাদেশ ম্যাচটি সরাসরি দেখেছেন উত্তর কোরিয়ার প্রধান কোচ রি সং হো। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি এখানে এসে চীন-বাংলাদেশ ম্যাচটি দেখেছি। আমার মনে হয়েছে, বাংলাদেশ দল আমি যতটা ভেবেছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।
তাদের আক্রমণভাগ খুব দ্রুত এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে যাওয়ার গতি ও দক্ষতা বেশ তীক্ষ্ণ। সংক্ষেপে বলতে গেলে, তারা একটি দ্রুতগতির দল। তাই আগামী ম্যাচে আমাদের রক্ষণভাগকে অনেক বেশি মনোযোগী হতে হবে, যাতে তারা গোলের সুযোগ না পায়।’টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়া ৩-০ গোলে হারিয়েছে উজবেকিস্তানকে।
ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথে তারা ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবলের উন্নতির বিষয়টিও তুলে ধরেন কোরিয়ান কোচ।তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও পূর্ব এশিয়ার তুলনায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবলের মান অনেক নিচে ছিল। কিন্তু এখন দেখছি, বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের দলগুলো দ্রুত উন্নতি করছে। ২০১৯ সালের ম্যাচের কথা বলা যায়, তবে চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দেখে মনে হয়েছে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে।
তারা এখন এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর একটি হয়ে উঠছে।’চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশের আক্রমণে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছিলেন ফরোয়ার্ড ঋতুপর্ণা চাকমা। তার একটি দূরপাল্লার শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন চীনের গোলরক্ষক। তাই আসন্ন ম্যাচে তাকে নিয়েই বেশি সতর্ক উত্তর কোরিয়া।রি সং হো বলেন, ‘বাংলাদেশের আক্রমণভাগের তিনজন খেলোয়াড়কে আমি বেশ বিপজ্জনক মনে করি। বিশেষ করে ১৭ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড়টি (ঋতুপর্ণা), যে বাঁ প্রান্ত দিয়ে খুব দ্রুত আক্রমণ করতে পারে। আক্রমণ ও রক্ষণ, দুই দিকেই তাদের গতি আমাদের ভাবাচ্ছে। তাই আগামীকালের ম্যাচে তাদের রুখতে আমাদের রক্ষণভাগকে আরও মনোযোগী হতে হবে।’
প্রথম ম্যাচে হারলেও বাংলাদেশের সাহসী ফুটবল ইতোমধ্যেই প্রতিপক্ষদের নজরে পড়েছে। এখন দেখার বিষয়, শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষেও সেই গতিময় ফুটবল ধরে রাখতে পারে কি না বাংলাদেশের মেয়েরা।