নিজস্ব প্রতিবেদক : 5 NOVEMBER, 2026, 5:57 PM

২০০৩ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান। সেবার ১-০ গোলে জিতেছিল পাকিস্তান। দীর্ঘ ২২ বছর পর আবারও ঢাকায় সাফের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হলো দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। তবে এবার ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয়নি। তিন গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ দিকে দুই গোল হজম করলেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ভারত।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ভারত। ১৩ মিনিটে বাম প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে মুহাম্মদ সুহাইল ভাটের উদ্দেশে পাস বাড়ান সতীর্থ। বল পেয়ে আলতো ছোঁয়ায় জালে পাঠিয়ে ভারতকে এগিয়ে দেন সুহাইল। ছয় মিনিট পর আবারও গোল করেন তিনি। পাকিস্তানের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের ফাঁকি দিয়ে দুর্দান্ত দক্ষতায় নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন এই ফরোয়ার্ড।
৩০ মিনিটে ব্যবধান ৩-০ করে ভারত। ম্যাংলেংথাম কিপজেনের গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় দলটি। তবে চার মিনিট পরই ব্যবধান কমানোর সুযোগ পেয়েছিল পাকিস্তান। পেনাল্টি পেলেও স্পটকিক থেকে শায়ক দোস্তের নেওয়া শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ফলে প্রথমার্ধে কোনো গোলের দেখা না পেয়েই বিরতিতে যেতে হয় পাকিস্তানকে।
দ্বিতীয়ার্ধেও ভারতের আধিপত্যের মধ্যে ম্যাচের শেষ দিকে নাটকীয়তার জন্ম দেয় পাকিস্তান। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা চার মিনিটে দুটি গোল করে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনে তারা। ৯১ মিনিটে নাজিব উল্লাহ পাকিস্তানের হয়ে টুর্নামেন্টে প্রথম গোল করেন। এর দুই মিনিট পর বক্সের মধ্যে দুর্দান্ত ভলিতে ব্যবধান ৩-২ করেন আলমগীর গাজী।
শেষ মুহূর্তে আরও একটি গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে পাকিস্তান। কিন্তু সময় ফুরিয়ে যাওয়ায় সমতায় ফেরা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ভারত। তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও পাকিস্তানের জন্য বড় আক্ষেপ হয়ে থাকল প্রথমার্ধে পাওয়া পেনাল্টির সুযোগটি কাজে লাগাতে না পারা।
ঢাকায় ভারত-পাকিস্তানের ফুটবল লড়াই অবশ্য নতুন নয়। ২০০৩ সালের সাফের উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তান ১-০ গোলে জিতেছিল। এরপর ২০০৯ ও ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজক হলেও দুই আসরে ভারত ও পাকিস্তান অংশ নিলেও মুখোমুখি হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৬ সালে আবারও ঢাকায় সাফের উদ্বোধনী ম্যাচে দেখা হলো দুই দলের। এবার জয়ের হাসি ভারতের।
ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে করমর্দন নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হলেও ফুটবল মাঠে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে দেখা গেছে সৌহার্দ্যের দৃষ্টান্ত। ম্যাচ চলাকালে কোনো খেলোয়াড় চোট পেলে প্রতিপক্ষের ফুটবলাররাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। খেলা শেষে দুই দলের খেলোয়াড়েরা পরস্পরের সঙ্গে করমর্দন করেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তাপের মধ্যেও খেলোয়াড়সুলভ আচরণের এই দৃশ্য ছিল ম্যাচের অন্যতম ইতিবাচক দিক।
Rent for add