স্পোর্টস ডেস্ক : ২ মার্চ ২০২৬, সোমবার, ২৩:৫৭:১৮

উদ্বোধনী ম্যাচের টিকিটের দাম প্রায় ৯০০ ডলার থেকে শুরু করে ফাইনালের জন্য ৮,০০০ ডলারেরও বেশি- উত্তর আমেরিকায় ১০০ দিন পর শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের ম্যাচ টিকিট মোটেও সস্তা নয়।
বার্তা সংস্থা এএফপি বিশ্বকাপে খেলা দেখতে যাওয়ার খরচ বিশ্লেষণ করেছে :
কত টিকিট, কত চাহিদা?
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার মতে, মোট প্রায় ৭০ লাখ টিকিট বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
একজন ব্যক্তি প্রতি ম্যাচে সর্বোচ্চ চারটি এবং পুরো টুর্নামেন্টে মোট ৪০টি টিকিট কিনতে পারবেন।
অক্টোবরে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক লটারিতে প্রায় ২০ লাখ টিকিট বিক্রি হয়। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার লটারিতেও রেকর্ড ৫০ কোটি ৮০ লাখ আবেদন পড়ে বলে জানিয়েছে ফিফা।
তবে ঠিক কতটি টিকিট বরাদ্দ হয়েছে, তা ফিফা জানায়নি। সবচেয়ে বেশি চাহিদা ছিল ২৭ জুন ময়ামিতে গ্রুপ কে-এর শেষ ম্যাচ কলম্বিয়া বনাম পর্তুগাল, ১৮ জুন গুয়াডালাজারায় সহ-আয়োজক মেক্সিকোর বিপক্ষে দক্ষিণ কোরিয়া এবং ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচের জন্য।
দামের উর্ধ্বগতি
৪৮ দল নিয়ে আয়োজিত বর্ধিত কলেবরের এই বিশ্বকাপে মোট ১০৪টি ম্যাচ হবে, যা ইতিহাসে প্রথম।
সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন ম্যাচগুলোর টিকিটের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। সমর্থক সংগঠন ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ জানায়, উত্তর আমেরিকার দরপত্রে শুরুতে প্রতিশ্রুতি ছিল মাত্র ২১ ডলার থেকে টিকিট পাওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবে সবচেয়ে সস্ত যে টিকিট বিক্রি হয়েছে, তার দাম ৬০ ডলার। ক্যালিফোর্নিয়ার লেভাইস স্টেডিয়ামে অস্ট্রিয়া বনাম জর্ডানের গ্রুপ-জে উদ্বোধনী ম্যাচের টিকিট এই মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে।
শীর্ষ দলগুলোর ম্যাচে অধিকাংশ টিকিটের দাম কমপক্ষে ২০০ ডলার। ফাইনালের সবচেয়ে সস্তা টিকিটের দাম ২,০০০ ডলার এবং সেরা আসনের দাম ৮,৬৮০ ডলার। তাও ফিফার অফিসিয়াল রিসেল সাইটের কথা ধরলে নয়, যেখানে ১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের একটি ‘ক্যাটাগরি থ্রি’ আসন বিজ্ঞাপিত হয়েছে অবিশ্বাস্য ১,৪৩,৭৫০ ডলারে, যা এর মূল মূল্য ৩,৪৫০ ডলারের ৪১ গুণেরও বেশি।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জোর দিয়ে বলেছেন, টিকিটের দাম মূলত বিপুল চাহিদার ফল। তিনি বলেন, “বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ‘ডাইনামিক প্রাইসিং’ নামে একটি ব্যবস্থা আছে, অর্থাৎ ম্যাচভেদে দাম বাড়তেও পারে, কমতেও পারে”।
দাম নিয়ে দীর্ঘদিনের সমালোচনার মুখে ফিফা তুলনামূলক সস্তা একটি টিকিট ক্যাটাগরি চালু করে। তবে ৬০ ডলারের এই টিকিটগুলো কেবল যোগ্যতা অর্জনকারী দলের সমর্থকদের জন্য বরাদ্দ ছিল এবং প্রতিটি জাতীয় ফেডারেশনের মোট কোটা’র মাত্র ১০ শতাংশ জুড়ে ছিল।
ফিফা ম্যাচ টিকিটের সঙ্গে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের সুবিধাসহ প্যাকেজও বিক্রি করছে। ১৬ জুন নিউ জার্সিতে ফ্রান্স বনাম সেনেগালের ম্যাচের জন্য এসব প্যাকেজের দাম ছিল ২,৯০০ থেকে ৪,৫০০ ডলারের মধ্যে।
দাম আরও বাড়ছে
ফিফা নির্দিষ্টসংখ্যক টিকিট আলাদা করে রাখছে, যা এপ্রিল থেকে টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত “আগে আসলে আগে পাবেন” ভিত্তিতে বিক্রি করা হবে।
এরপর রয়েছে রিসেল প্ল্যাটফর্মগুলো, যার মধ্যে ফিফার নিজস্ব অফিসিয়াল সাইটও আছে। তবে এই বিতর্কিত সমর্থকদেও মধ্যকার বাজারে পুনর্বিক্রেতারা নিজেরাই দাম নির্ধারণ করতে পারেন, ফলে ফাইনালের টিকিটে এমন বিশাল অঙ্ক দেখা যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় রিসেল বাজার নিয়ন্ত্রণহীন। মেক্সিকোতে মূল মূল্যের চেয়ে বেশি দামে টিকিট পুন:বিক্রি নিষিদ্ধ, তবে কেবল তখনই এটা প্রযোজ্য হবে যখন টিকিটটি মেক্সিকোতে স্থানীয় মুদ্রায় কেনা হয়।
১১ জুন মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্বোধনী ম্যাচের জন্য ‘ক্যাটাগরি থ্রি’- স্ট্যান্ডের ওপরের অংশের একটি আসন সম্প্রতি তালিকাভুক্ত ছিল ৫,৩২৪ ডলারে, যেখানে এর মূল দাম ছিল ৮৯৫ ডলার। সিটগিক ও স্টাবহাবের মতো অন্যান্য সাইটে তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম দামে টিকিট বিক্রি হচ্ছিল।
অতিরিক্ত খরচ
ভ্রমণকারী সমর্থকদের জন্য শুধু টিকিটের দামই ভাবনার বিষয় নয়। অনেক বিশ্বকাপ স্টেডিয়াম শহরের কেন্দ্র থেকে দূরে হওয়ায় পার্কিংয়ের দামও আকাশচুম্বী। আটলান্টায় একটি গ্রুপ ম্যাচের জন্য পার্কিং স্পেসের দাম ১০০ ডলার, আর লস অ্যাঞ্জেলেসে তা ৩০০ ডলার।
যেসব ভক্তের ম্যাচের টিকিট নেই, তাদের জন্য বিকল্প হিসেবে রয়েছে ১৬টি আয়োজক শহরের আশপাশে আয়োজিত ফ্যান ফেস্টিভাল। কানসাস সিটির ফ্যান ফেস্টে একসঙ্গে ২৫,০০০ মানুষ প্রবেশ করতে পারবে। নিউইয়র্কে ইউএস ওপেন টেনিস ভেন্যু ফ্ল্যাশিং মিডোতে ফ্যান জোনে রূপান্তর করা হবে, যেখানে সর্বোচ্চ ১০,০০০ জন অর্থপ্রদানকারী দর্শক প্রবেশ করতে পারবেন। যদিও তা কেবল ১৭ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত।
Rent for add